আলু থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকার বাড়তি আয় সিন্ডিকেটের !

গোলআলুতে গণ্ডগোল বেঁধেছে।  সরকারের বেঁধে দেয়া কথা শুনছে না আলু। ক্রেতাদের দম আটকে যাচ্ছে আলুতে। দোষটা ঠিকই আলুর।

সরকার গত মঙ্গলবার হিমাগার পর্যায়ে ২৭ টাকা,পাইকারিতে ৩০ টাকা এবং খুচরা বিক্রিতে ৩৫ টাকা কেজিতে  আলুর  দাম বেঁধে দেয়। তবে এই দামে কেউ আলু বিক্রি করছে না।

নগরীতে কাঁচাবাজারগুলোতে আজকেও আলু বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকায়। উপজেলার কাঁচাবাজারগুলোতে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজি-প্রতি ৪৫ টাকা।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি অবশ্য বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, খুচরা বাজারে আলুর দাম দুই-তিন দিনের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যের নিচে নেমে আসবে। সে কথা আমলে নেয় নি আলু ।

তবে তিনি এটাও বলেছেন, আলুর বাজার অস্থির হয়েছে,এটা আমরা নিয়ন্ত্রণ করি না, এটা কৃষি মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করে। ভোক্তাদের সহযোগিতার জন্যই আমরা টিসিবির মাধ্যমে ২৫ টাকা দরে বাজারে আলু ছেড়েছি।’

গত বুধবার সরকার নির্ধারিত দামে আলু বিক্রি করতে ব্যবসায়ী ও আড়ৎদারদের প্রতি ‘বিনীত অনুরোধ’ জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক।
আর আজ শনিবার সকালে  কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক   টাঙ্গাইলের মধুপুরে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেছেন,  কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা ১৬-১৭ টাকা কেজিতে কৃষকের কাছ থেকে আলু কিনেছে,সেখানে সরকার গুদাম পর্যায়ে দাম নির্ধারণ করেছে  ২৭ টাকা কেজিতে ।  এই যৌক্তিক দামের মধ্যেই তাদের আলু বিক্রি করা উচিত।

সস্তা দরে আলু কিনতে লাইন 

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য মতে, প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয় আট টাকা ৩২ পয়সা। মৌসুমের সময় ক্রয়মূল্য, হিমাগার ভাড়া ও অন্যান্য সব খরচ মিলিয়ে হিমাগার গেটে প্রতি কেজি আলুর দাম পড়ে ১৮ টাকা ৯৯ পয়সা। প্রথমে গত ৭ অক্টোবর হিমাগার পর্যায়ে প্রতি কেজিতে ৪ টাকা মুনাফা ধরে আলুর দাম নির্ধারণ করা হয় ২৩ টাকা। শতাংশের হিসাবে প্রায় ২১ শতাংশ মুনাফা। কিন্তু হিমাগার মালিক ও মধ্য-স্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা এই মুনাফায় খুশি নন। তারা আবার গত ২০ অক্টোবর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করে হিমাগার পর্যায়ে আলুর দর পুননির্ধারণ করে। এবার হিমাগার পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর দর নির্ধারণ করা হয় ২৭ টাকায়।

আরো পড়তে পারেন:  ২০ ফেব্রুয়ারি: টিভিতে আজকের খেলা সূচি

এই হিসেবে পাইকারি পর্যায়েও নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা। একইভাবে খুচরা ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। সবমিলিয়ে ব্যবসায়ী  সিন্ডিকেট আলু থেকেই কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

ওদিকে,  আলুর বাড়তি দাম ঠেকাতে এবং সরবরাহ ঠিক রাখতে বাজারের পাশাপাশি হিমাগারেও অভিযান চালাচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।  তবে অভিযোগ উঠেছে, খাবার আলুর পাশাপাশি বীজ আলু ছেড়ে দেয়ার জন্যও চাপ দেয়া হচ্ছে । ফলে অনেকেই বাধ্য হচ্ছে বীজ আলু ছেড়ে দিতে। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, প্রয়োজনের তুলনায় আলু বীজের পরিমাণ কম থাকায় এবং  এখনো বৃষ্টি থাকায় আসন্ন মৌসুমে আলুর সংকট হতে পারে।  সূত্র: পার্সটুডে

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

Loading...
আরো পড়তে পারেন:  করোনায় ছুটিতে থাকা প্রবাসীরা সৌদিতে ফিরতে পারবেন না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *