‘আমার স্ট্যাটাস দুর্নীতির বিরুদ্ধে, ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়’

প্রয়াত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে ফেসবুকে ‘কটূক্তির’ অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার  রাবি  শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমানকে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বুধবার দিবাগত ২টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তবে ফেসবুক পোস্ট সম্পর্কে গ্রেফতার হওয়ার আগে কাজী জাহিদ বাংলা ট্রিবিউনের কাছে দাবি  করেন তিনি মোহাম্মদ নাসিমের বিরুদ্ধে কিছু লেখেননি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমার স্ট্যাটাস দুর্নীতির বিরুদ্ধে, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়।’

তিনি ১৪ জুন রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি কারও নাম উল্লেখ করিনি।  আমি কোথাও নাসিম সাহেবের নাম উল্লেখ করিনি, আপনি দেখতে পারেন। আমি লিখেছি দুর্নীতির বিপক্ষে। এখন আপনি যদি বলেন, দুর্নীতিগুলো আমি করেছি। তাহলে আপনার নামে লেখা হলো। ব্যপারটা তাই না? আমি বরং নাসিম সাহেবের ছবি দিয়ে লিখেছি, আল্লাহ ওনাকে মাফ করে দিক।’

বোয়ালিয়া থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক তাপস কুমার সাহা বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করেছেন। তার মামলার এজাহারে বলা হয়, কাজী জাহিদুর রহমান গত ১, ২ ও ৫ জুন নিজের ফেসবুক ওয়ালে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে  মিথ্যা আক্রমণাত্মক তথ্য-উপাত্ত ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করেন। যার মাধ্যমে জনমনে শত্রুতা, বিদ্বেষ এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতির অপচেষ্টা করেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, মোহাম্মদ নাসিম অসুস্থ হওয়ার পর থেকে কাজী জাহিদুর তার ফেসবুক নাসিমকে ইঙ্গিত করে স্বাস্থ্যখাত নিয়ে কয়েকটি স্ট্যাটাস দেন। ওই পোস্টগুলো প্রথমে সেভাবে সামনে না আসলেও মোহাম্মদ নাসিম মারা যাওয়ার পর এ নিয়ে সমালোচনা হয়। বেরোবির এক শিক্ষককে একই ধরনের অভিযোগে গ্রেফতারের পর কাজী জাহিদুর রহমানের স্ট্যাটাসগুলো সামনে আসে। তার শাস্তির দাবি জানান ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও  আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা। বহিষ্কার করা হয় দলীয় পদ থেকে। কাজী জাহিদ নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও  গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

আরো পড়তে পারেন:  বাংলাদেশকে বড় বাণিজ্য সুবিধা দিতে যাচ্ছে ভারত!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই শিক্ষককে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের আগে রাতেই পুলিশ  আমাকে ফোন করেছিল, কিন্তু আমি ঘুমিয়েছিলাম।  সকালে আমি ফোন করলে গ্রেফতারের বিষয়টি আমাকে জানায়। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’

 

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

DSA should be abolished
/ জাতীয়, সব খবর
Loading...
আরো পড়তে পারেন:  সামরিক বাজেট বিলে ট্রাম্পের ভেটো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *