আজব এক দেশ বাংলাদেশ

 

মনজুর চৌধুরী, টেক্সাস (আমেরিকা) থেকে

 

১.
প্রথমে যখন করোনা বিশ্বময় মহামারি আকার ধারণ করছে, তখন আমরা বলছি দেশের মানুষের কিছুই হবে না। রাষ্ট্র জানাল, বাংলাদেশ এতটাই প্রস্তুত, যা বিশ্বের অনেক দেশেরই নেই। এটি মিডিয়ার তৈরি হাইপ। সামান্য সর্দি–জ্বরের মতোই বিষয়।

নেতা, ধর্মীয় নেতা বা অনেকে নানান ফর্মুলা দিয়ে বেড়ালেন। বাজার থেকে নাই হয়ে গেল থানকুনিপাতা। তালিকায় কিছু ডাক্তার সাহেবও যুক্ত হয়ে গেলেন। ডব্লিউএইচও, সিডিসিসহ বিভিন্ন বিশ্ব সংস্থা গবেষণা, জার্নাল, তথ্য–উপাত্ত ইত্যাদিকে পাত্তা না দিয়ে নিজেদের খেয়াল–খুশিমতো হাইপোথিসিস দাঁড় করিয়ে প্রচারে নেমে গেলেন যে গরমে করোনাভাইরাস ছড়ায় না। তাই বাংলাদেশের কোনোই ভয় নেই। বাংলাদেশে এলেও গরমে মরে যাবে।

ফলাফল হয়েছে ভয়াবহ।

এই যে শুরু থেকেই আমরা হাজারো বাঙাল বিদেশে নিজেদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার আলোকে চিল্লাফাল্লা করছিলাম, সবাইকে সাবধান করছিলাম, আমাদের রীতিমতো হ্যারাস করেছে লোকে। কেউ সরকারি দলের কথা বিশ্বাস করেছে। তারা বলেছে, আমরা জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছি। এটি সর্দি–জ্বরের মতোই সামান্য ব্যাপার। মৃত্যুহার দুই পার্সেন্টও না। তাও বয়স্কদের। ইয়ং পোলাপানের কিছুই হবে না। শুধু শুধু প্যানিক সৃষ্টি করে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরির ষড়যন্ত্র করছি ইত্যাদি।

ডাক্তারের কথা মেনে চলা লোকজনতো একটাই প্রশ্ন করে। ‘আপনি ডাক্তার?’ ‘না।’ ‘তাহলে এত প্যানপ্যান করছেন কেন? বেশি জানেন? শুধু শুধু প্যানিক ছড়াবেন না। আমাদের আমাদের মতন থাকতে দিন।’

ফলে আমরা অবাধে রাস্তাঘাট মাতিয়ে বেড়িয়েছি। ব্রিফিংয়ে, আমাকে যেন ক্যামেরায় দেখা যায়, সে জন্য আমরা গাদাগাদি করে মন্ত্রীর পেছনে দাঁড়িয়েছি। হাজারো মানুষ একত্র হয়ে গায়ের সঙ্গে গা ঘষাঘষি করে ওয়াজ মাহফিলে অংশ নিয়েছি। সনাতনধর্মীরা পুণ্যলাভের আশায় পুণ্যস্নানে গিয়েছি। করোনা বিস্তার চলছে, তারপরও কনসার্ট বাতিল করিনিই। মক্কা-মদিনাসহ বিশ্বের মোটামুটি সব মুসলিমপ্রধান দেশে মসজিদ বন্ধ হয়ে গেলেও আমরা করিনি। নামাজ শেষে হ্যান্ডশেক করেছি, কোলাকুলি করেছি।

ডাক্তার সাহেব বলেছেন, ‘এই ভাইরাস ড্রপলেট থেকে ছড়ায়। মানে কেউ কাশলে বা হাঁচি দিলে জীবাণু সারফেসে পড়ে এবং সেই সারফেস কেউ হাতাপিতা করে নিজের মুখ, চোখ, নাক ধরলে তখন গিয়ে কেউ আক্রান্ত হবে।’ এই ফুর্তিতে কেউ একটুও চিন্তা করলাম না টম হ্যাংকসের মুখের ওপর কে হাঁচি দিল, ট্রুডোরের বউ কার মুখনিঃসৃত কফ দলাইমালাই করল, ইদ্রিস এলবা বা অন্যান্য সেলিব্রেটিরা, যাঁরা মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন, তাঁদের শরীরে কীভাবে ‘ড্রপলেটের’ মাধ্যমে রোগটি ছড়াল? কমন সেন্স, যা সবার মাঝে আনকমন একটি ব্যাপার, সেটি থাকলে আমরা বুঝতাম, না, এই রোগ কেবলই ড্রপলেট থেকে ছড়ায় না। এখন রেজাল্ট বলছে, আক্রান্ত রোগীর ছয় ফুটের মধ্যে থাকলেই খবর আছে। সে কাশুক অথবা না কাশুক।

২.
যখন পৃথিবীর সব দেশে বিমান চলাচলের ওপর কঠিন নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল, আমাদের দেশে তখনো অবাধে চীন এবং ইউরোপ থেকে লোকজন যাতায়াত করতে লাগলেন। টনক নড়ল তখন, যখন ইতালির একদম রেড জোন এলাকা থেকে এক প্লেনভর্তি মানুষ দেশে এলেন। সবাই চরম গালাগালি করলেন। বাইরে থেকে এভাবে রোগ বয়ে আনল কোন বুদ্ধিতে? রেমিট্যান্সের দোহাই দিচ্ছিল কেউ কেউ। আরে বাবা, আমি নিজে প্রবাসী। দু–চার পয়সা রেমিট্যান্সের অংশীদার আমিও। কিন্তু তাই বলে আমার অধিকার নেই কোটি কোটি মানুষকে বিপদে ফেলার।

এর ফলে একটা লাভ অবশ্য হলো। চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো হলো আমাদের প্রস্তুতি কতটা ফাঁকা ছিল।

তা হোম কোয়ারেন্টিন কী, সেটা সম্পর্কেও কাউকে কোনো রকম গাইডলাইন দেওয়া হলো না। কোনো নজরদারিরও ব্যবস্থা করা হলো না। তাই লোকজন বাড়িতে ফিরেই বাজারে বেরিয়ে গেলেন আড্ডা দিতে। কোলাকুলি, জড়াজড়ি, হাতাহাতি সব চলল। বাচ্চাদের আদরও দেওয়া হলো, বড়দের বুকে জড়িয়ে ধরা হলো। কেউ বিয়ে খেতে গেলেন, কেউ নিজের বাড়িতে পার্টির ব্যবস্থা করলেন। কেউ ভ্যাকেশনে সাজেকে গেলেন, আড্ডা দিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। খুবই আনন্দে সময় কাটল।

আরো পড়তে পারেন:  করোনার ভয়কে জয় করবেন যেভাবে

সরকার এরপর জোরপূর্বক গৃহবন্দীর ব্যবস্থা করলে লোকজন ‘কোয়ারেন্টিন’ কী জিনিস, সেটা জানতেই সেই ভদ্রলোকের জানালায় ভিড় করলেন। পুলিশ ডেকে তাড়াতে হয়েছে। কোয়ারেন্টিনে থাকা এক রোগীর মধ্যে করোনাভাইরাসের সব উপসর্গ দেখা দিলে ‘রোগী দেখতে’ আত্মীয়স্বজন ভিড় করলেন বাড়িতে। রোগীর বিছানায় বসে রোগীর হালহকিকত জেনে জীবনটা ধন্য করলেন।

ঢাকার মেয়ররা গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সবাইকে হাত ধুতে বললেন। তিনি রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে বেসিনের ব্যবস্থা করলেন। সেই বেসিন উদ্বোধন এবং মানুষকে কীভাবে হাত ধুতে হবে, সেটা শেখাতে বিরাট জমায়েতের ব্যবস্থা করলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিশু হাসপাতালের ডায়াবেটিস বিভাগ উদ্বোধন করতে দলবল নিয়ে গেলেন। নির্বাচন কমিশন ভোটের তারিখ বদলাল না।

যা–ই হোক, এর মধ্যেই লোকজনের চাপে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় সব স্কুল–কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। এর পরদিনই আমরা ছুটে গেলাম কক্সবাজার, পতেঙ্গা, সিলেট, বান্দরবান, রাঙামাটি ইত্যাদিতে। আমাদের ট্যুরিজম খাত লালে লাল হয়ে গেল। হঠাৎ পাওয়া এই ছুটিতে আমাদের তখন আনন্দের শেষ নেই!

স্কুল–কলেজ তো বন্ধ হলো, কিন্তু অফিস–আদালত কলকারখানা? শ্রম মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিল, অবশ্যই কলকারখানা চালু রাখা হবে। পরের দিনই সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করল, যাতে লোকজন বাড়িতে অবস্থান করেন। কিন্তু আরেক দফা ভ্যাকেশন পেয়ে আমাদের মাথা নষ্ট হয়ে গেল। আবারও ট্রেনের, লঞ্চের, বাসের টিকিট কেটে, শুয়ে, বসে, ছাদে উঠে, দাঁড়িয়ে, ভিড় করে আমরা ছুটলাম যার যার বাড়ির উদ্দেশে। আমাদের মনে ঈদের আনন্দ! এরাই কিছুদিন আগে ইতালিয়ানদের গালাগালি করেছিল, কেন তারা বিদেশ থেকে ভাইরাস নিয়ে দেশে এল! এরাই এখন শহর থেকে ভাইরাস বয়ে নিয়ে গ্রামে গেল।

নজরুল ইসলাম সেই বহু যুগ আগেই এই জাতি সম্পর্কে বলে গেছেন,

‘আমরা সবাই পাপী;
আপন পাপের বাটখারা দিয়ে;
অন্যের পাপ মাপি !!’

৩.
দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা এমনিতেই খুব একটা ভালো না। স্বাস্থ্য খাতে আমাদের বাজেট শুনলে বাইরের লোকে হাসে। সময়ে সময়ে সেটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। বৈশ্বিক মহামারি পরীক্ষার ক্ষমতা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে, তাও যাদের অফিস ঢাকায়। ঢাকার বাইরের কেউ চিকিৎসা পাবেন না। তাও যাদের কিটসংকটে ভুগতে হচ্ছে। ঢাকার লোকেরাও চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অন্য সব হাসপাতাল উপসর্গ শোনামাত্র রোগী বিদায়ের অভিযোগ আসছে। রোগীর আত্মীয়স্বজনও তাই রোগের লক্ষণ লুকিয়ে কোনো রকমে হাসপাতালে ভর্তি করে দিচ্ছেন। এর ফলে ডাক্তাররা সংক্রমিত হচ্ছেন। কারণ, ডাক্তারদের কোনো সুরক্ষা পোশাক নেই। সরকারের পক্ষ থেকে একটি গ্লাভস, একটি মাস্ক পর্যন্ত কিছুদিন আগে সরবরাহ করা হয়নি।

এদিকে ব্যাংকের অফিসাররা পিপিই পরে অফিস করছেন। আচ্ছা, ডাক্তাররা নিজেদের টাকায় এই ড্রেস কেনার ব্যবস্থা করতে পারেন না? এমন তো না যে আমাদের দেশের ডাক্তাররা না খেয়ে আছেন। সরকারের দিকে কেন তাকিয়ে আছেন? এত ভরসা আমাদের সরকারের লোকজনের ওপর? নিজেদের বাচ্চাদের দিকে তাকান, নিজেদের প্রাণ বাঁচান। যেখান থেকে পারেন, এই পোশাক কেনার ব্যবস্থা করুন। নার্স, ওয়ার্ডবয় বা অন্যরা, যাঁদের টাকা–পয়সা নেই, তাঁদের জন্য ডোনেশন তুলুন, তাঁদের আপাতত পলিথিন পেঁচিয়ে কাজ করান। যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের পোশাক যেন আসে, সেটা নিশ্চিত করুন। আমি জানি না, আমার কোনোই ধারণা নেই এসব বিষয়ে। কিন্তু বুঝতে পারছি, আমাদের সিস্টেমে কিছু গন্ডগোল চলছে এবং এই কঠিন সময়ে নিজেরটা নিজেকেই সামলাতে হবে। আমাদের কোটি কোটি টাকা বাজেট থাকে অনেক কিছুতেই, ডাক্তার–নার্সদের পিপিই দেওয়ার সময়ে আমরা ফকির!

ও আচ্ছা, তাঁদের করোনা পরীক্ষার পদ্ধতির কথা না বললে এই লেখা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

রোগীর মধ্যে যদি কোনো উপসর্গ ধরা পড়ে, লোকজন হাসপাতালে ছুটে। হাসপাতাল জানায় হটলাইনে ফোন দিতে। হটলাইনে ফোন দিলে এঙ্গেজ আসে, ব্যস্ত আসে, বন্ধ আসে, সব আসে, কেবল কাউকে পাওয়া যায় না। যখন পাওয়া যায় তখন একটা ইন্টারভিউ দিতে হয়। রোগী কোনো প্রবাসীর সংস্পর্শে এসেছিলেন কি না। যদি না এসে থাকেন, তাহলে সেখানেই বাতিল। ওটা করোনা না। আর যদি আসে, তখন খুব সম্ভব সেই প্রবাসীরও খোঁজখবর নেওয়া হয় তাঁর করোনা হয়েছে কি না। না হলে এও বাতিল। মোটকথা, কতজনকে পরীক্ষার জন্য ডাকা হয় তা নিয়ে সন্দেহ আছে। যে কারণে আমাদের দেশে তিনের ঘরের নামতা অনুযায়ী রোগী বাড়ছে। যেভাবে তিনজন তিনজন করে রোগী শনাক্ত হচ্ছিল, তাতে মনে হচ্ছিল আগামীকালও (পড়তে হবে বুধবার) তিনজন হবে। ইদানীং সেটা বেড়ে ছয়ের ঘরের নামতা চলছে। ইতালিতে মরছেই দিনে ৭০০ থেকে ৮০০ জন, আর আমাদের দেশে শনাক্ত হচ্ছেন দিনে তিন থেকে ছয়জন। আসলেই তো মন্ত্রী সাহেব ঠিক বলেছিলেন, আমাদের মতন প্রস্তুতি ইউরোপ–আমেরিকাও নেয়নি।

আরো পড়তে পারেন:  দুর্ধর্ষ ডেটিং বেলুনে, কে বলে লকডাউন, ছাদ পেরিয়ে প্রেম!

তা মানুষের মৃত্যু কি থেমে আছে? না। ঠান্ডা, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া টাইপ রোগে মানুষের মৃত্যু ঠিকই হচ্ছে। সুস্থ–সবল মানুষ, ধুম করে মারা যাচ্ছেন। কোনো পরীক্ষা হচ্ছে না। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যাও তাই তিন-চার-পাঁচ। একটা সময়ে হয়তো এই মহামারি কেটে যাবে, আমাদের সরকারি হিসাবে দেখা যাবে ১০০ জনও শনাক্ত হবেন না। অথচ বাংলাদেশের প্রতিটা পরিবারের হয়তো একজন করে হলেও সদস্য পৃথিবী থেকে বিদায় নেবেন ততক্ষণে। আমাদের মা-বাবা, আমাদের শ্বশুর-শাশুড়ি, আমাদের দাদা-দাদিরা এখন চরম বিপর্যয়ের মাঝে আছেন।

করোনার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে আমাদের অর্থনীতিতে। একের পর এক কোম্পানি ধসে যাচ্ছে, প্রতি মিনিটে শেয়ারের দরপতন ঘটছে। বিশ্বের পরাশক্তি দেশগুলো সামান্য একটি জীবাণুর কাছে অসহায়। আমাদের এখানে বন্দুক–পিস্তলের বিক্রি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। লোকজন বেকার হয়ে গেলে সমাজে অপরাধের পরিমাণ বেড়ে যায়। তখন নিজের ও বাড়ির সুরক্ষা নিজের কাছেই। গৃহবন্দী থাকতে থাকতে সবাই খুব দ্রুত ডিপ্রেশনে চলে যাবে। এখনই অনেকে চলে গেছেন। মদ বিক্রি হচ্ছে পানির চেয়ে বেশি।

করোনার একটিই ভালো দিক লক্ষণীয়। সেটি হচ্ছে, এক মাস ধরে কোনো বিমান কোনো জনপদে বোমা ফেলেনি। কোনো ট্যাংক থেকে ছুটে আসা গোলা গুঁড়িয়ে দেয়নি কোনো আবাসিক দালান। কোনো বাবার তাঁর মেয়েকে বোমার শব্দকে খেলার অংশ বুঝিয়ে ভুলিয়ে হাসির ভিডিও বানাতে হয়নি। কোনো শিশুকে শরণার্থী হয়ে পালাতে গিয়ে সাগরে হারিয়ে গিয়ে তীরে মৃত ভেসে উঠতে হয়নি। কোনো শিশুকে মৃত্যুর আগে কাঁদতে কাঁদতে বলতে হয়নি, ‘আমি আল্লাহকে সব বলে দেব।’

আল্লাহ সব জানেন, সব শোনেন। তাঁকে কখনো তন্দ্রা স্পর্শ করে না। তিনি যখন কাউকে ধরেন, তখন আসমান–জমিনে কারও সাধ্য নেই তাঁকে উদ্ধার করার।

আমরা সবাই এত দিন তাঁদের কান্না দেখে না দেখার ভান করেছি। আমরা এত দিন ওদের মরতে দেখেও চুপ করে ছিলাম। না খেতে পেরে মানুষ মরেছে, আমাদের বিবেক জেগে ওঠেনি। আমরা আমাদের দায় কীভাবে এড়াব? আজকে সামান্য এক জীবাণু আমাদের নতজানু করে ছেড়েছে।

এই সময়েই আমরা আমাদের বিগত জীবনের যাবতীয় ভুলের ক্ষতিপূরণ করতে পারব। যার একটি হচ্ছে, আমাদের দিন আনি দিন খাই মানুষদের পাশে এসে দাঁড়ানো। আমাদের যাদের সামর্থ্য আছে, তাঁরা ইচ্ছা করলেই একটি পরিবার বাছাই করতে পারি, যাদের এক বেলা খাবারের ব্যবস্থা আমরা করব। কয়েক মুঠো চাল, সামান্য ডাল, দু-একটা পেঁয়াজ, কিছু ডিম, আলু, যেকোনো একটি সবজি ইত্যাদি কিনতে খুব বেশি টাকা যায় না। আমি ইচ্ছা করলেই ৭ দিন, ১০ দিন ইত্যাদি হিসাব করে একটা প্যাকেট তৈরি করে সেই পরিবারকে বলে দিতে পারি এসে নিয়ে যেতে। অবশ্যই সোশ্যাল ডিস্টেন্স রেখে। ও আসার সময়ে আমি দরজার বাইরে রেখে দেব, তিনি এসে নিয়ে যাবেন। কারও কোনো স্পর্শের সুযোগ নেই।

এই চরম দুর্যোগে বাড়তি খাবার কিনে মজুত করে খাদ্যসংকটের দিকে দেশকে ঠেলে দেওয়া বন্ধ করতে পারি। এক প্যাকেট পাউরুটি খুব বেশি হলে এক সপ্তাহ টেকে। এরপরেই কিন্তু এক্সপায়ার করে। আমি আট–দশ প্যাকেট পাউরুটি কিনে বাড়ি ভরিয়ে ফেললাম। সপ্তাহ শেষে দেখি মাত্র দুই প্যাকেট খেতে পেরেছি, বাকিটা সব এক্সপায়ার্ড হয়ে গেছে। ফেলে দিতে হবে। অথচ হাজার খানেক মানুষ দোকানে এসে পাউরুটি না পেয়ে খালি হাতে ফেরত গেছেন। শুধু পাউরুটি না, চাল, ডাল, সবজি ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটছে। ফ্রিজে সবজি পচিয়ে কী লাভটা হচ্ছে? সেদিন ভাই জানাল, তার সামনে একজন পঞ্চাশটা মুরগি কিনে নিয়ে গেল। আস্ত দোকানে আর মুরগি বাকি রুখল না। ইচ্ছা করছিল বলতে, ‘তুই কি পঞ্চাশটা মুরগি তোর…?’

আরো পড়তে পারেন:  ১০ ফেব্রুয়ারি: টিভিতে আজকের খেলা সূচি

আরেকজন জিনিসপত্র কিনে নিজের বাড়িকে দোকান বানিয়ে ফেলেছেন। সব এক্সপায়ার্ড মাল কী করবেন? জিজ্ঞেস করলে দাঁত কেলিয়ে বলছেন, ‘রিটার্ন পলিসি কাজে লাগাব!’

মানে বাতিল হওয়া মাল সে ফেরত দিয়ে নিজের টাকা ফেরত আনবে। কিন্তু প্রচুর মানুষ এর জন্য খালি হাতে দোকান থেকে ফেরত যাবেন।

দয়া করে এই কাজগুলো করবেন না। আমরা সবাই মিলে এই মহাবিপদে পড়েছি, সবাই মিলে কাজ করলে একসঙ্গেই বের হতে পারব ইনশা আল্লাহ। সবাইকে এক হতে হবে। আলাদা আলাদাভাবে কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলে অতি শিগগিরই করোনাভাইরাসের পাশাপাশি আরও হাজারো সংকটে আমরা ডুবে যাব।

পৃথিবীর সিস্টেম রিবুট হচ্ছে। এখন বাঘে মোষে এক ঘাটে জল খাওয়ার সময়।

 

সূত্র: প্রথম আলো

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

Loading...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *