অ্যাকশন শুরু স্বাস্থ্য অধিদফতরে

 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী সার্জন পদমর্যাদার ২৮ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নতুন মহাপরিচালক যোগদানের পরই শুরু হয়েছে অ্যাকশন। কর্মকর্তাদের রদবদলকে তার ইঙ্গিত হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বদলির এ খবরে তটস্থ রয়েছেন বহু বছর ধরে শিকড় গেড়ে বসা বেশ কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

শুদ্ধি অভিযানের জন্য শুধু স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা নয়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও বদলি করা হবে বলে জানা গেছে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘আমি সবে দায়িত্ব নিয়েছি। এখানকার বিষয়ে বলতে পারব না। তবে আমরা চিকিৎসকরা করোনার মধ্যে মানুষের সেবা দেওয়ার শতভাগ চেষ্টা করেছি। করোনার শুরুতে সবার এ ভাইরাস সম্পর্কে সুষ্ঠু ধারণা ছিল না। তাই সবারই ভয় ছিল। কিন্তু এখন অনেকটা কেটে গেছে। আমার প্রথম কাজ হবে মহামারী সামাল দেওয়া। কারণ আগে তো বাঁচি, তারপর অন্য কিছু। বাঁচলে দুর্নীতি দূর করতে কাজ করা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আমি সবার সহযোগিতা চাই। আপনারা এক মাস দুই মাস দেখেন আমরা কাজ করি। তারপর মূল্যায়ন করবেন। সবার সহযোগিতা পেলে আমরা অবশ্যই আস্থা ফেরাতে পারব।’

করোনাভাইরাস মহামারীর শুরু থেকেই মাস্ক, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম, টেস্ট কিট নিয়ে সিন্ডিকেট দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে চুক্তি, ভুয়া টেস্টসহ নানা অনিয়ম ও জেকেজির দুর্নীতির চিত্র সামনে এলে নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য অধিদফতর। দোষারোপ চলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের মধ্যে। এর মধ্যে সরিয়ে দেওয়া হয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল শাখার পরিচালককে। এরপর পদত্যাগ করেন মহাপরিচালকও। গতকাল আরও ২৮ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এদের আটজন স্বাস্থ্য অধিদফতরে, ১৯ জন বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটির গ্রিড হাসপাতালে এবং একজন বরগুনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। গতকাল এক আদেশে তাদের আটজনকে বিমানবন্দর স্বাস্থ্য অফিসে এবং ২০ জনকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বেলায়েত হোসেন স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের ২৮ জুলাই নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘৩৯তম বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া এই চিকিৎসকদের নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে নতুন জায়গায় পদায়ন করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের কভিড ইউনিটে চিকিৎসকের স্বল্পতা ছিল। আর বিমানবন্দর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এখন কাজের চাপ বেড়েছে। এ কারণে সেখানে আটজনকে দেওয়া হয়েছে।’

আরো পড়তে পারেন:  চলন্ত ট্রেনে ঝুলে টিকটক, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরল কিশোর! (ভিডিও)

স্বাস্থ্য অধিদফতরের নতুন মহাপরিচালক নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, ‘এ মুহূর্তে দেশের অনেক জেলা বন্যায় ভেসে যাচ্ছে। সব বানভাসি মানুষকে কী করে স্বাস্থ্য বিষয়ে সাহায্য করা যায় সে বিষয়ে সকালে সিভিল সার্জনদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। বর্তমান সময়ে মহামারী ও বন্যা মোকাবিলা প্রধান কাজ। এ দুটো বিষয়কেই প্রাধান্য দিয়ে কাজ করব। পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিষয় নিয়ে কাজ করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘মহামারীর এ সময়ে আগের যে কোনো পরিকল্পনা কিংবা চিকিৎসা পদ্ধতি পরিবর্তন হতে পারে। আমাদের আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি বা কমার ওপর নির্ভর করে আমাদের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে হবে। সমন্বয়হীনতা কেন ছিল আমি তা বলতে পারব না, আমি এ সিস্টেমের বাইরে ছিলাম। আমি মনে করি সবার সঙ্গে যোগাযোগ করলে, লিয়াজোঁ করলে সমন্বয়হীনতা থাকবে না। আমার আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।’ অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, ‘সকালে সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান যোগাযোগ করেছেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিনজনকে অ্যাসাইন করেছি। তারা এক দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবেন। মেশিনারিজে সমস্যা থাকলে তাও আমরা জানাব কিংবা এর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ সময় স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা উপস্থিত ছিলেন।

 

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে ফেইসবুক পেজটি লাইক দিন এবং এই রকম আরো খবরের এলার্ট পেতে থাকুন

 আরো পড়তে পারেন:  

Loading...
আরো পড়তে পারেন:  ১৬ নভেম্বর: ইতিহাসে আজকের এই দিনে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *