অধ্যক্ষের পক্ষে প্রভাবশালীদের অবস্থানের নেপথ্য…

 

ফেনীর সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নানা অপকর্মের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। জানা যায়, এর আগেও একাধিক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে এই সিরাজের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ, তিনি একেক সময় একেক ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করতেন। পরীক্ষার প্রশ্ন দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। এ অপকর্ম করতে অধ্যক্ষ মাদ্রাসা শিক্ষকদের কার্যালয় থেকে নিজ দফতরটি আলাদা ভবনে সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি সাইক্লোন সেল্টারে দোতলায় দফতর করেছেন। তার এসব অপকর্মের অন্যতম সহযোগী মাদ্রাসার পিয়ন, কয়েকজন ছাত্র এবং স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা।

একাধিক ছাত্রী অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা কর্তৃক যৌন হেনস্তার শিকার হলেও লোকলজ্জার ভয়ে প্রকাশ করেননি। গত ২৭ মার্চ সবশেষ যে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেছেন তার দুই মাস আগে আরও এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেছেন। ওই ঘটনায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হলেও কোনো বিচার হয়নি।

এর আগেও একাধিক ছাত্রীকে পিওন দিয়ে ডেকে নিয়ে নিজ কক্ষের মধ্যে শ্লীলতাহানি করতেন অধ্যক্ষ। ওইখানে অধ্যক্ষ সিরাজ খাস কামরাও তৈরি করেছেন। অধ্যক্ষ সিরাজ পিওনদের দিয়ে ডেকে নিয়ে ছাত্রীদের নানা প্রলোভনে ফেলে শ্লীলতাহানি করতেন। তার বিরুদ্ধে কেউ ভয়ে মুখ খুলতে পারতো না। তার বিরুদ্ধে যাতে কেউ কোনো কথা বলতে না পারে এজন্য নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছেন। মাদ্রাসার কয়েকজন ছাত্র তার অপকর্মের সহযোগী। এছাড়া পিওনরা তার অপকর্মের অন্যতম সহযোগী।

‘স্যার খুব খারাপ লোক। তার লালসার শিকার অনেকেই হয়েছিল। আমার শরীরে পর্যন্ত সে হাত দিয়েছিল ’- এমনটিই বলছেন ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নাসরিন সুলতানা ফুর্তি। নাসরিন নুসরাত জাহান রাফির বান্ধবী। নাসরিন বলেন, স্যার আমার গায়েও হাত দিয়েছিল। সে সময়ও আমরা দুই বান্ধবী প্রতিবাদ করেছি। তিনি পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভীতি দেখিয়ে প্রায় সবাইকে কু-প্রস্তাব দিতেন তিনি।

বৃহস্পতিবার আলিম পরীক্ষা শেষে হল থেকে বের হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ সম্পর্কে বলেন, এমন কোন মেয়ে নাই যার হাত তিনি ধরেনি। সে আমাকেও ছাড়েনি আমার শরীরেও হাত দিয়েছিল। এ ঘটনায় আমি সর্বপ্রথম নুসরাতকে বলেছিলাম। নুসরাত ঐদিন আমার বিষয় নিয়ে সিরাজ স্যারের সঙ্গে ঝগড়া করেছিল।

নুসরাতের চিঠিতে যে বান্ধবীর নাম আছে, সেই তানজিনা আক্তার সাথি বলেন, প্রতিবাদী ছিল নুসরাত। ওর প্রতিবাদে আমরা শিক্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার সাহস সঞ্চয় করেছিলাম। এমনকি ইউএনও বরাবর আমরা একটি দরখাস্ত লেখার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু কোনো এক কারণে সেটা জমা দেয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সিরাজ স্যার পরীক্ষার ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আমাদের কু-প্রস্তাব দিতো। অনেক গরীব শিক্ষার্থী আছে। তারা হয়তো সে টাকা দিয়ে নতুন করে পরীক্ষা দিতে পারবে না। যার ফলে তারা কখনোই প্রতিবাদ করতে আসেনি। সেই সুযোগ নিতো সিরাজ স্যার।

৬ এপ্রিল অগ্নিদগ্ধ ছাত্রী নুসরাতকে উদ্ধার করতে আসা দুজনের একজন হলেন মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী মো. মোস্তফা। পুলিশের একজন সদস্যকে নিয়ে ওই মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন মোস্তফা।

তিনি জানান, ‘অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা পরপর দুটি শ্লীলতাহানির ঘটনায় ধরা পড়েন। শুধু নুসরাত নয়, এর আগেও নিজ দপ্তরে একাধিকবার তাকে মেয়েদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছি। এতে তিনি আমাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন। একবার তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘পাথরের সঙ্গে কপাল ঠুকলে মাথা ফাটবে, নাকি পাথর ফাটবে?’ আমি বলেছিলাম মাথাই ফাটবে।’

এই নৈশপ্রহরী আরো বলেন, ‘অধ্যক্ষের দপ্তর ছিল নিচতলায়। মেয়েদের সঙ্গে অশালীন আচরণের ঘটনা একাধিকবার আমার চোখে পড়েছে। তিনি নিচতলা সেফ মনে না করায় ‘সাপ ঢুকেছে, নিচতলার দপ্তর নিরাপদ নয়’ বলে পাশের ভবনের দ্বিতীয় তলায় তার অফিস স্থানান্তর করেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *